ইরান-সংকটের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় যুক্তরাজ্যে জ্বালানি তেল চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন তেল পাম্প, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রাক থেকে সংঘবদ্ধ চোরদের জ্বালানি চুরির ঘটনা বাড়ছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Mirror-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম রেকর্ড ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে পাম্পগুলোতে জ্বালানি নিয়ে প্রতারণা ও চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান ফোরকোর্ট আই-এর পরিচালক মিশেল হেনচোজ জানান, কিছু চক্র ট্যাংক ভরে নেওয়ার পর টাকা না দেওয়ার কৌশল ব্যবহার করছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘবদ্ধ চোরেরা জেরিক্যান এমনকি কোকা-কোলার বোতলের মতো পাত্র ব্যবহার করে পাম্প থেকে জ্বালানি নিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকারী প্রযুক্তিও তাদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তার তথ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় দৈনিক জ্বালানি চুরির হার প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রাকগুলোও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে চোরেরা গাড়ির জ্বালানি ট্যাংক ড্রিল করে তেল সরিয়ে নিচ্ছে, যা যানবাহনের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সন্দেহ হলে গাড়ি চালু না করাই নিরাপদ।
ব্র্যাডফোর্ড এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, মুখোশধারী একদল চোর তার প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি লরি থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল চুরি করেছে। অন্যদিকে স্থানীয় পুলিশ একটি বড় চুরির ঘটনার তদন্ত করছে, যেখানে গোপনে পাইপ বসিয়ে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং দাম বৃদ্ধিই এই অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।





