যুক্তরাজ্যে কর্মরত দক্ষ আন্তর্জাতিক পেশাজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রস্তাবিত অভিবাসন নীতির পরিবর্তনকে ঘিরে। এক জরিপে দেখা গেছে, নতুন নীতির কারণে বিপুল সংখ্যক কর্মী দেশটি ছাড়ার কথা ভাবছেন।
‘স্কিল মাইগ্রেন্টস অ্যালায়েন্স লিমিটেড’ (এসএমএএল) পরিচালিত জরিপে ১০ হাজারের বেশি পেশাজীবী অংশ নেন। এতে ৬২ শতাংশ জানান, স্থায়ী বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বা ১৫ বছর করা হলে তারা যুক্তরাজ্য ত্যাগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, এই ঝুঁকি সর্বমোট ৯৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে ‘স্কিলড ওয়ার্কার’ ভিসায় পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে যাওয়া ব্যক্তিরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে স্থায়ী বসবাস, সন্তানের শিক্ষা ও কর্মজীবন ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করলেও তা এখন ঝুঁকির মুখে।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯৮.৫ শতাংশ মূল ভিসাধারী জানিয়েছেন, নতুন নীতি কার্যকর হলে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে যারা ৪ থেকে ৫ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, তারা সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের বড় প্রভাব পড়তে পারে দেশটির স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে। জরিপ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যখাতের ৯৪ শতাংশ কর্মী দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন, যেখানে ইতোমধ্যে এক লাখ ৩১ হাজারের বেশি শূন্যপদ রয়েছে।
এছাড়া আইটি ও প্রকৌশল খাতের প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী বিকল্প হিসেবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসন্ন অভিবাসন ‘হোয়াইট পেপার’-এ সরকার তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। তবে এসএমএএল দাবি করেছে, নতুন কোনো নীতি যেন আগেই কর্মরতদের ওপর প্রয়োগ না করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি পূর্বের ৫ বছরের স্থায়ী বসবাসের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে, তাহলে তা যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।