হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স–এর যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রায় ৪০টি দেশ এক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কীভাবে নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকটি প্যারিস-কেন্দ্রিক হলেও আংশিকভাবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘর্ষের পর ইরান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর পর যুক্তরাষ্ট্র, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নেতৃত্বে, ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ দেয় এবং মিত্রদের এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়। তবে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সরাসরি এতে সাড়া দেয়নি, কারণ এতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো বলছে, তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না। তবে যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত শেষ হলে প্রণালিটি নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। যদিও এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তবুও কূটনীতিকরা মনে করছেন টেকসই সমাধানের জন্য শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এ ছাড়া এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন, এবং চীনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে পড়া প্রায় ২০ হাজার নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে।
এছাড়া ওমান-এ একটি অপারেশনাল কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব আসতে পারে। জার্মানি জানিয়েছে, সংঘাত শেষ হলে তারা এই উদ্যোগে সহায়তা করতে প্রস্তুত, তবে তা জাতিসংঘ-এর অধীনে হওয়া উচিত বলে তারা মনে করে।
ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মাইন অপসারণ এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক নিরাপত্তায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা অবরোধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক আইনসম্মত সমাধান খুঁজছে, যা সংঘাত না বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে।