বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ক্রমবর্ধমান ভর্তুকির চাপ কমাতে আবাসিক বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যবহারভেদে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য ৭ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ১১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
এছাড়া পাইকারি বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের জন্য তিনটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভর্তুকি ৫ হাজার কোটি থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রান্তিক বা লাইফলাইন গ্রাহকদের (০–৭৫ ইউনিট) ক্ষেত্রে আপাতত দাম না বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি বিদ্যুতের বর্তমান মূল্য ৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৫৪ পয়সা, ৮ টাকা ৪ পয়সা অথবা ৮ টাকা ২৪ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, ফলে ভর্তুকির চাপও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ায় তা ভর্তুকি দিয়ে সামাল দিতে হচ্ছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার একদিকে ব্যয় সংকোচন, অন্যদিকে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ বিদ্যুতের খুচরা ও পাইকারি মূল্য সমন্বয় করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়।
বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এলএনজি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, শুধু স্পট মার্কেট থেকেই অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক জ্বালানি তেলেও বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমাতে এবং মূল্য সমন্বয়ে ধাপে ধাপে সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত রেখে তিন বছরের একটি রোডম্যাপ তৈরির সুপারিশও করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও দেশীয় উৎপাদন ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা না হলে ভর্তুকির বোঝা আরও বাড়বে।