ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সিলেট নগর ও আশপাশের এলাকা। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও একই পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্করা। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও অনেক সময় সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বৃহত্তর সিলেটে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭৫ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে প্রায় ১৪৫ মেগাওয়াট—ফলে প্রায় ৩০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।
এই ঘাটতির কারণে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানান পিডিবি সিলেট বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতের চাহিদাও আরও বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও চাপের মধ্যে রয়েছে।
ব্যবসায়ীরাও এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। লামাবাজারের ব্যবসায়ী নাসিম হোসেন বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী জুনেদ আহমদও একই ধরনের ক্ষতির কথা জানান এবং দ্রুত সমাধানের দাবি করেন।
সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মার্কেট নির্ধারিত সময়ে বন্ধ রাখা হলেও দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। জেনারেটর চালাতে জ্বালানি তেলের সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ঘন ঘন বিভ্রাটে সিলেটের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।