ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্য নিয়ে যুগান্তকারী একটি বিল অনুমোদন করেছে UK Parliament। নতুন এই আইনের মাধ্যমে কম বয়সীদের জন্য তামাকজাত পণ্য কেনা কার্যত স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার পথ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দিক তুলে ধরা হলো—
১. আইনে কী বলা হয়েছে?
‘টোবাকো অ্যান্ড ভ্যাপস বিল’ অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০০৯ বা তার পরে জন্ম নেওয়া কেউ যুক্তরাজ্যে কখনোই সিগারেটসহ কোনো তামাকজাত পণ্য কিনতে পারবে না—এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও নয়।
আইনটি ভ্যাপ পণ্যের স্বাদ, প্যাকেজিং ও বিপণন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও সরকারকে দিয়েছে। ধূমপান নিষিদ্ধ এলাকাগুলোতে ভ্যাপিংও নিষিদ্ধ করা হয়েছে, বিশেষ করে স্কুল ও শিশুদের খেলার মাঠের আশপাশে।
২. কেন এই পরিবর্তন?
Office for জাতীয় Statistics–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫৩ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ছিল, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। ধূমপান এখনো দেশটিতে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ, বছরে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এতে মারা যায়।
স্বাস্থ্য সংস্থা Action on Smoking and স্বাস্থ্য–এর এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ নাগরিক প্রজন্মভিত্তিক তামাক নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেন। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী Hazel Cheeseman এ উদ্যোগকে ‘চিন্তাধারার বড় পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
৩. কবে কার্যকর হবে?
বিলটি রাজকীয় সম্মতি পেলেই আইন হিসেবে কার্যকর হবে। ২০০৮ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে। এরপর প্রতি বছর বৈধ ক্রয়যোগ্য বয়স এক বছর করে বাড়ানো হবে।
৪. কীভাবে বাস্তবায়ন হবে?
ধূমপায়ীদের শাস্তি না দিয়ে বিক্রেতাদের ওপর জরিমানা আরোপ করা হবে। ২০০৮ সালের পর জন্ম নেওয়া কারো কাছে তামাক বিক্রি করলে ২০০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
Cancer Research UK–এর নীতিবিষয়ক কর্মকর্তা Ailsa Froguel মনে করেন, কালোবাজার তৈরির আশঙ্কা অতিরঞ্জিত এবং আগের অভিজ্ঞতায় এমনটি সত্য প্রমাণিত হয়নি।
৫. বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট কী?
প্রজন্মভিত্তিক তামাক নিষেধাজ্ঞা চালুর ক্ষেত্রে Maldives–এর পর বিশ্বে দ্বিতীয় দেশ হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
New Zealand আগে এ ধরনের উদ্যোগ নিলেও পরে তা বাতিল করা হয়। এছাড়া France এবং United States–এর কিছু অঙ্গরাজ্যেও অনুরূপ প্রস্তাব আলোচনা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইন পুরোপুরি ধূমপান বন্ধ করতে না পারলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে এর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।