যুক্তরাজ্যের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় দায়িত্ববোধ নিয়ে অনীহার একটি চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক জরিপে। The Telegraph–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী অর্ধেকের বেশি তরুণ কোনো পরিস্থিতিতেই দেশের হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে চান না।
John Smith Centre–এর উদ্যোগে ২,০০০ তরুণের ওপর চালানো এই জরিপে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ নিজেদের দেশের জন্য অস্ত্র ধরতে অনাগ্রহী। মাত্র ৩৮ শতাংশ জানিয়েছেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে তারা যুদ্ধে যেতে রাজি হতে পারেন।
জরিপে উঠে এসেছে, এই অনীহার পেছনে প্রধান কারণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তরুণদের অসন্তোষ। কেন্দ্রটির পরিচালক Eddie Barnes বলেন, যে রাষ্ট্র তরুণদের জন্য কাজ করছে না, সেই রাষ্ট্রের জন্য তরুণদের লড়াই করার আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
আবাসন সংকট, কম মজুরি, ঋণের চাপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, তরুণদের আশাবাদেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। গত বছর যেখানে ৬৩ শতাংশ তরুণ বিশ্বাস করতেন তাদের জীবন বাবা-মায়ের চেয়ে ভালো হবে, সেখানে এবার সেই হার নেমে এসেছে ৩৬ শতাংশে। মাত্র ২৫ শতাংশ মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা তাদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করছে।
অনেক তরুণের মতে, তারা এমন একটি সামাজিক কাঠামো রক্ষায় আগ্রহী নন, যেখানে নিজের বাড়ি কেনা বা আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জনই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও চাকরি না পাওয়া এবং পরিবারের ওপর নির্ভরশীল থাকা তাদের হতাশা আরও বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈষম্য ও অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে তরুণদের জাতীয়তাবোধকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং দেশের জন্য লড়াই করার মানসিকতাও কমিয়ে দিচ্ছে।