আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জামায়াত নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের কথা বললেও বিএনপি বলছে ‘জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’-এর কথা। দুই প্রস্তাবের মধ্যে যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন শেষে সরকার গঠনের আগে তারা বিএনপির সঙ্গে বসে আলোচনা করতে চান। তিনি জানান, দেশের স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব দলকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সরকার কাঠামোর কথা বলেননি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তার বক্তব্যকে ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় নিজেদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে চায়। তবে বিএনপি ও জামায়াতের বর্তমান সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যেই রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দল কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও দিচ্ছে।
জামায়াত জানিয়েছে, তারা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত দিয়েছে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জুলাই আন্দোলনের আলোকে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়ন। এসব শর্ত মানা হলে তারা জাতীয় সরকার গঠনে অংশ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে দলটি।
অন্যদিকে বিএনপি স্পষ্ট করেছে, তারা নির্বাচনে জয়ী হলে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নিয়েই জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতকে বাদ রেখেই তাদের সরকার গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির আশঙ্কা, সব দলকে নিয়ে সরকার গঠন করলে সংসদে কার্যকর বিরোধী দল থাকবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, প্রকাশ্য অবস্থান অনুযায়ী বিএনপি ও জামায়াতের একসঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা আপাতত কম। দুই দলই আলাদা জোট ও শর্তে নির্বাচনে যাচ্ছে এবং নির্বাচন ঘনিয়ে এলে তাদের পারস্পরিক দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, শেষ পর্যন্ত কী ধরনের সরকার গঠিত হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলাফল ও তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।
— বিবিসি অবলম্বনে