ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর কলকাতার বাংলাদেশ মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে অনুমতি মিলতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়—বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত দুই বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন এবং বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ওই এলাকা থেকে পটুয়াখালীর রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং ঢাকার আলমগীর হোসেনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করেন এবং পরে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে তারা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় আসেন। সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং রোববার তাদের আদালতে হাজির করার পর পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোড এলাকায় রিকশায় থাকা অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।