পরিবারের অমতে প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছাড়েন তরুণী। বিয়েও করেছিলেন প্রেমিককে। কিন্তু সেই বিয়ে টেকেনি বেশিদিন। চার মাসের মাথায় তরুণীকে গোপনে তালাক দেয় প্রতারক স্বামী সিদ্দিকুর রহমান সাগর।
এ নিয়ে আদালতে বিচার চাইতে গিয়ে স্বামীর বাড়ির লোকেদের কটাক্ষের শিকার হন ভুক্তভোগী। তাই ক্ষোভে-ঘৃণায় আদালত থেকে ফিরে কাফনের কাপড় ও দাফনের জিনিসপত্র নিয়ে পার্কে গিয়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ওই তরুণী।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী মুক্তিযোদ্ধা পার্কে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।।
জানা গেছে, আত্মহত্যার চেষ্টা করা তরুণী বরিশাল সদর উপজেলার বাসিন্দা। চিকিৎসাধীন তরুণী জানান, সদর উপজেলার সাহেরহাটের খোন্তাখালী এলাকার ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিকুর রহমান সাগরের সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। ২০২৫ সালের ২২ মে বিয়ে করেন তারা। কিন্তু আমার পরিবার গরিব হওয়ায় বিয়েতে সম্মতি ছিল না সাগরের পরিবারের। এ কারণে বিয়ের চার মাসের মাথায় গোপনে আমাকে তালাক দেয় সাগর।
তরুণীর ফুফাতো ভাই জানান, আমার মামাতো বোনের সঙ্গে সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের কারণে গর্ভবতী হয়ে পড়ে সে। বিষয়টি জানতে পেরে সাগর তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। একপর্যায় সে সাগরের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় সাহেবেরহাট কাজি অফিসে তাদের বিয়ে হয়।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের পর তার শ্বশুরবাড়িতে না নিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিছুদিন পর শ্বশুর তাকে ঢাকায় নিয়ে গর্ভপাত করিয়ে বাড়িতে পাঠায়। এর চার মাস পরেই গোপনে তালাক দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন মামাতো বোন। এই ঘটনায় সে আদালতে মামলাও করে। সোমবার সেই মামলার তারিখ ছিল। সে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তার শ্বশুর এবং দেবরসহ তাদের স্বজনরা তাকে নিয়ে নানা ধরনের অশালীন মন্তব্য করে। এ কারণে আদালত থেকে ফিরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বোন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বরিশাল জেলা পুলিশের সদস্য মো. জীবন জানান, ওই তরুণী পার্কের বেঞ্চে শুয়ে কাতরাচ্ছিলেন। শিশু-কিশোরদের কাছ থেকে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পেই, তরুণী পার্কের বেঞ্চের ওপর শুয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। পাশেই বিষের বোতল পড়েছিল।
তিনি আরও বলেন, তা ছাড়া কাফনের কাপড়সহ দাফনের কাজ যা কিছু প্রয়োজন হয় সব কিছুই ছিল। দ্রুত জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করা হলে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মেহেদী হাসান বলেন, তরুণী কীটনাশক পান করেছে। হাসপাতালে আনার পর তার স্টমাক ওয়াশ দেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে আছেন।