লন্ডনের স্ট্রাটফোর্ডে অবস্থিত হাসানাহ সেন্টার স্ট্রাটফোর্ড লন্ডনের উদ্যোগে এক অত্যন্ত সফল ও হৃদয়স্পর্শী কমিউনিটি কনফারেন্স ও রামাদান লঞ্চ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্য ছিল কমিউনিটির সাথে হাসানাহ সেন্টারের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা, স্বচ্ছতার সাথে প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক কার্যক্রম ও আর্থিক হিসাব উপস্থাপন করা এবং আসন্ন রামাদানের প্রস্তুতি তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হাসানাহ সেন্টারে প্রতি জুমার দিনে তিনটি জামাতে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করেন, যা এই সেন্টারের প্রতি কমিউনিটির আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিফলন। একইসাথে ঘোষণা করা হয় যে, আসন্ন পবিত্র রামাদানে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রায় সাত হাজার মুসল্লির জন্য ইফতারের আয়োজন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানে হাসানাহ সেন্টারের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা হয় এবং মোট ৩১৮,০০০ পাউন্ডের বার্ষিক বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট উপস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয় যে, বর্তমান জায়গাটি ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটির চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত ছোট। সে কারণে জরুরি ভিত্তিতে বেইজমেন্ট গ্রহণ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে ১,০০,০০০ পাউন্ড প্রয়োজন, যা হাসানাহ সেন্টারের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানটি হাসানাহ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও খতীব শায়খ শাব্বীর আহমদ সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি তার বক্তব্যে হাসানাহ সেন্টারের বাৎসরিক রিপোর্ট পেশ করেন এবং কমিউনিটির সর্বাত্মক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
রামাদান লঞ্চ পর্বে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আসন্ন রামাদানে তারাবীহ নামাজে ইমামতি করবেন এমন হাফিজদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তারা কুরআনের হৃদয়গ্রাহী তিলাওয়াত পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এছাড়াও হাসানাহ একাডেমির শিক্ষার্থীরা কুরআন তিলাওয়াত, বক্তব্য ও বিভিন্ন প্রদর্শনী উপস্থাপন করে, যা উপস্থিত অতিথিদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। অনুষ্ঠানে রামাদানে আগত ইমামদের দায়িত্ব ও কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনের প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম, স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা। বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল এস-এর ফাউন্ডার মাহি ফিরদাউসের জলিল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “হাসানাহ সেন্টার একটি আদর্শ ইসলামীক সেন্টার, যা সকলের জন্য উন্মুক্ত। এ ধরনের আয়োজন কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হাসানাহ সেন্টার সেই দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করছে।” তিনি প্রতিষ্ঠানের ভুয়সী প্রশংসা করেন এবং এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইয়াহইয়া আলখাস মিয়া। হাসানাহ সেন্টারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে আসে এর বহুভাষিক ও বহুজাতিক কমিউনিটি কাঠামো। অনুষ্ঠানে আরবি ভাষার পাশাপাশি সোমালিয়ান, গাম্বিয়ান, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে পুরো সমাবেশটি ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের কমিউনিটি কনফারেন্স সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি, আর হাসানাহ সেন্টার তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে।
অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় শায়খ শাব্বীর আহমদ জানান, আগামী ১ মার্চ, রবিবার পবিত্র রামাদান উপলক্ষে চ্যানেল এস-এ হাসানাহ সেন্টারের লাইভ ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বেইজমেন্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য সহযোগিতার আহ্বান জানানো হবে।
পরিশেষে সকলের জন্য রাতের খাবার পরিবেশন করা হয় এবং সম্মিলিত দোয়ার মাধ্যমে এই সফল ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।






