দেশ থেকে পালিয়ে এসেছি, সরকারি লোকেরাই আমাকে সাহায্য করেছে: ড. মোমেন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬:
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টানা প্রায় আট মাস দেশে আত্মগোপনে ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আত্মগোপনের সময় একাধিকবার বাসা পরিবর্তন, মোবাইল সিম বদল এবং চেহারায় পরিবর্তন আনেন তিনি। পরে নানা ঝুঁকি ও কৌশল অবলম্বন করে দেশ ছাড়েন বলে জানিয়েছেন ড. মোমেন।
সম্প্রতি ইউটিউভভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর সঞ্চালক সুলতানা রহমানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান তিনি। এ সাক্ষাৎকারেই দীর্ঘ সময় পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের আত্মগোপন ও দেশত্যাগের অভিজ্ঞতার কথা বলেন সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ড. মোমেন বলেন, “আমি কোনো অন্যায় করিনি। কাউকে জেলে পাঠাইনি, চুরি-চামারি করিনি। তাই আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যে, একসময় কর্নেল সাব আমাকে ফোন করে বলেন—‘স্যার, উই উইল প্রটেক্ট ইউ।’ তখন সবাই আমাকে বলল, আপনার নম্বর পেয়ে গেছে, এখান থেকে বের হয়ে যান।”
আত্মগোপনের সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আত্মীয়স্বজনের বাসায় না গিয়ে সাধারণ মানুষের ভাড়া বাসায় অবস্থান করতেন। কারণ তার আত্মীয়স্বজন সবাই পরিচিত হওয়ায় সেখানে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তিনি জানান, বিভিন্ন বাসায় রেন্ট নিয়ে থেকেছেন এবং সেটিই তাকে নিরাপদ থাকতে সহায়তা করেছে।
চেহারা পরিবর্তনের বিষয়ে ড. মোমেন বলেন, “মবের ভয় ছিল। তাই চেহারা পুরোপুরি বদলে ফেলেছিলাম। দাড়ি রেখেছি, পোশাক বদলেছি। এমনকি নাপিত ডাকার ক্ষেত্রেও সতর্কতা নিয়েছি—যাতে কেউ জানতে না পারে কোথায় আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে।”
দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা খুব লম্বা গল্প। অনেক কষ্ট করে বের হয়েছি। মূলত আমার স্ত্রীর পরামর্শ ও উদ্যোগেই দেশ ছাড়তে পেরেছি। আমি তখন ফোনে কথা বলতেও পারতাম না। সব ব্যবস্থা তিনিই করেছেন।”
বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়টি উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, “বিমানবন্দর ধারে কাছেও যাওয়া সম্ভব ছিল না। বিভিন্নভাবে পালিয়ে এসেছি। এখনই সব বলতে চাই না, কারণ সরকারি লোকেরাই আমাকে সাহায্য করেছে।”
তিনি আরও বলেন, বিদেশে যাওয়ার নামে অনেক দালাল থাকলেও তিনি তাদের ওপর নির্ভর করেননি। “আমি আজ বেঁচে আছি মানুষের দোয়ার কারণে। অনেক মানুষ আমাকে চেনেন না, তবুও আমার জন্য দোয়া করেছেন, ওমরাহ ও হজ করেছেন।”
দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. মোমেন বলেন, “আমরা সাদাসিধে মানুষ। দেশটাকে বাঁচাতে হবে। আমি চাই না বাংলাদেশ জঙ্গি দেশে পরিণত হোক। এ জন্য সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ড. এ কে আব্দুল মোমেন আত্মগোপনে চলে যান। দেশের ভেতরেই প্রায় আট মাস অবস্থান করেন তিনি। এই সময়ে তিনি ছয়বার মোবাইল সিম পরিবর্তন করেন এবং একাধিকবার বাসা বদল করেন। আন্দোলনের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও আগস্টে দেশে ফিরে আসেন, এরপরই আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন।





