আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের প্রাক্কালে সরাইলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ না করেই কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় এলাকা ত্যাগ করেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান। পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে আসেন। তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রথমে ফুল দিতে গেলে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। দলের পদ ব্যবহার করে যারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, শহীদ মিনারে দুই পক্ষের ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রুমিন ফারহানার সমর্থকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করেন। এ সময় তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও ঘটনার বিচার দাবি করেন।