‘তারাবি’ শব্দের আভিধানিক অর্থ বিশ্রাম নেওয়া। ইসলামী পরিভাষায় তারাবি বলা হয় পবিত্র রমজান মাসে এশার নামাজের পর বিতরের আগে আদায়কৃত সুন্নত নামাজকে। সাধারণত চার রাকাত পরপর বিরতি নেওয়ার কারণে এ নামাজকে ‘তারাবি’ বলা হয়।
তারাবির নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। রমজানের রোজা মহান আল্লাহ ফরজ করেছেন, আর তারাবির নামাজ প্রবর্তন করেছেন মহানবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে এ নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করেছেন।
হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং আমি এ মাসে রাতের নামাজ (তারাবি) সুন্নত করেছি। যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখবে এবং রাতের নামাজ আদায় করবে, সে নবজাতকের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২২১২)।
ফুকাহায়ে কেরামের মতে, ফরজ বা নফল-সব ধরনের নামাজেই কোরআন শরিফ দেখে পড়লে নামাজ ভেঙে যায়। কারণ, কোরআন দেখে পড়ার ক্ষেত্রে সাধারণত কপি হাতে নিতে হয়, পৃষ্ঠা উল্টাতে হয় এবং চোখ কিতাবের দিকেই নিবদ্ধ রাখতে হয়।
নামাজের ভেতরে এ ধরনের অধিক নড়াচড়া ও অতিরিক্ত আমলকে ‘আমলে কাসির’ বলা হয়, যা নামাজ ভঙ্গের কারণ। এছাড়া কোরআন দেখে পড়া অনেকটা কারও কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের মতো মনে করা হয়-এ কারণেও তা নামাজের খুশু-খুজু ও ধারাবাহিকতার পরিপন্থী বলে গণ্য করা হয়েছে।
তাই অধিকাংশ আলেমের মতে, তারাবিসহ কোনো নামাজেই কোরআন দেখে তিলাওয়াত করা বৈধ নয়। তবে যাদের মুখস্থ কম, তারা ছোট ছোট সুরা বা যেসব আয়াত মুখস্থ আছে তা দিয়েই নামাজ আদায় করতে পারেন।