‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার-সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
রোববার দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিলেট জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী। আমাদের সমাজের একটি বড় নেতিবাচক দিক হলো নারীদের অনেক ক্ষেত্রে তাদের ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই ছেলে ও মেয়ের মধ্যে পার্থক্য করে আমরা এই বৈষম্যের বীজ বপন করি। পরবর্তীতে শিক্ষা গ্রহণ, পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্তি, চিকিৎসা সেবা এবং পারিবারিক সম্পত্তির অংশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই বৈষম্য বিভিন্নভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে কেউ কাউকে সহজে জায়গা করে দেয় না; নিজের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে প্রত্যেককে নিজ অবস্থান তৈরি করতে হয়। বাংলাদেশের মেয়েরা আজ নিজেদের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নারীদের অগ্রযাত্রার পথে সমাজে যে সব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। অতীতে অনেক সময় ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা বা দোহাই দিয়ে নারীদের পিছিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ বাস্তবে সব ধর্মেই নারীদের মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার বুলিংয়ের মতো নতুন ধরনের হয়রানির শিকারও হচ্ছেন অনেক নারী। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।
সিলেট মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ডা. মোঃ নাসির উদ্দীন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সুবর্ণা সরকার এবং জেলা শিশু একাডেমির পরিচালক সাইদুর রহমান ভুঁইয়া। এ সময় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।