মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন লন্ডনের মেয়র Sadiq Khan। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও তা শেষ করা অত্যন্ত কঠিন।
শনিবার (৭ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer–এর অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করে স্টারমার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতাই যুক্তরাজ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; বিশৃঙ্খলা বা রক্তপাত কোনো সমাধান নয়।
খান এই সংঘাতকে ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেন, এতে জড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে অংশ নিলে ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে থাকা মানুষের ওপর জ্বালানি তেলের দাম, খাদ্যমূল্য এবং গৃহঋণের কিস্তির বোঝা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার যে অগ্রগতি হয়েছে, তাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
যদিও ইরানের শাসকগোষ্ঠীর দমনপীড়নের সমালোচনা করেছেন সাদিক খান, তবু তিনি মনে করেন Iran–এর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ সঠিক পথ নয়। বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজা উচিত।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও স্পষ্ট করে জানান, কোনো চাপ তাকে তার নীতি ও মূল্যবোধ থেকে সরাতে পারবে না। তিনি মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমেই ইরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখা সম্ভব।
জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক মহলের অনুমোদন ছাড়া হামলা শুরু করার সমালোচনা করে সাদিক খান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের উচিত কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে মনোযোগ দেওয়া।
এদিকে তার এই বক্তব্যের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump আবারও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর Friedrich Merz–এর সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প লন্ডনের মেয়রকে ‘অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।
তবে মেয়র সাদিক খানের মুখপাত্র এ মন্তব্যের পাল্টা জবাবে রসিকতার সুরে বলেন, খান এখনো ট্রাম্পের মাথায় জেঁকে বসে আছেন এবং ট্রাম্প তাকে নিয়ে কিছুটা বেশিই ব্যস্ত।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে Donald Trump ও Sadiq Khan–এর মধ্যে এমন বাকযুদ্ধ চলে আসছে, যা সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।