ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে ‘মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত’ বলে দাবি করেছেন সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক স্যার রিচার্ড ডালটন, যিনি দীর্ঘদিন তেহরানে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা জরুরি ছিল। তার দাবি, তেহরান পশ্চিমা বিশ্বের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছিল এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছিল।
তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন ডালটন। তিনি বলেন, এই দাবিগুলো বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তার মতে, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত হামলার পরই ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
ডালটন আরও জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উপস্থাপিত গোয়েন্দা তথ্যেও দেখা গেছে—জুনের হামলার পর ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুনরায় চালুর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তার ভাষায়, ইরানকে ঘিরে হুমকির যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রচারিত ভিত্তিহীন প্রচারণা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বর্তমান শাসকদের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে, ইসরায়েল ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে একাধিকবার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি।