ইরান ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরীকে ‘খেলনা’ বলে উপহাস করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত রণতরীর প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের। তার ভাষায়, “আমাদের এগুলো দরকার নেই, বিরক্ত হওয়ারও কিছু নেই।”
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তিনি যুক্তরাজ্যের কাছে দুটি বিমানবাহী রণতরী চেয়েছিলেন। যদিও ব্রিটিশ সরকার এ ধরনের কোনো অনুরোধের বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
ইরানে হামলা নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে প্রতিরক্ষামূলক কাজে কিছু ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে।
এর মধ্যে সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের একটি ঘাঁটির দিকে লেবানন থেকে ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য ‘এইচএমএস ড্রাগন’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পাঠায়।
হরমুজ প্রণালি সচল রাখার চেষ্টায়ও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ একটি নৌযান মোতায়েনের বিষয় বিবেচনা করছে, যা মাইন অপসারণকারী ড্রোনের জন্য ‘মাদারশিপ’ হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়াগো গার্সিয়া ঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও আঘাত হানার আগেই সেগুলো প্রতিহত করা হয়। এ ঘটনাকেও গুরুত্ব না দিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের এত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তর নিয়ে যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাজ্য এই ইস্যুতে দুর্বলতা দেখিয়েছে।
ন্যাটো জোট নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুদ্ধের শুরুতেই মিত্রদের সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল, শেষের দিকে নয়। ট্রাম্পের ভাষায়, “যখন সব শেষ হয়ে যায়, তখন সবাই সাহায্য করতে চায়।”
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের জবাব দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। তিনি জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানানো সমীচীন নয়।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই ন্যাটোর সমালোচক ছিলেন। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেও জোটটিকে নিয়ে তির্যক মন্তব্য অব্যাহত রেখেছেন এবং সম্প্রতি সদস্য দেশগুলোকে ‘ভীতু’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।





