আগামী মাস থেকে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ, পড়াশোনা, কাজ বা বসবাসের উদ্দেশ্যে ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ফি বাড়ানো হচ্ছে। সর্বোচ্চ বৃদ্ধি ২২২ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।
অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শরণার্থী নীতিতে পরিবর্তন, ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের দেশে ফেরাতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত প্রণোদনা এবং অবৈধভাবে কর্মরতদের জন্য সরকারি অর্থে নির্মিত আবাসনের সুবিধা বাতিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদান—এই চার দেশের নাগরিকদের জন্য ছাত্র ভিসায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
নতুন ভিসা ফি আগামী ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এতে গড়ে প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত খরচ বাড়বে, যা নিয়োগকর্তা, স্পনসর, পরিবার ও অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করবে।
নতুন ফি অনুযায়ী, ছয় মাসের স্বল্পমেয়াদি ভিজিট ভিসা ৮ পাউন্ড বেড়ে ১৩৫ পাউন্ড হবে। দুই বছরের ভিজিট ভিসা ৫০৬ পাউন্ড, পাঁচ বছরের জন্য ৯০৩ পাউন্ড এবং ১০ বছরের জন্য ১,১২৮ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন ফিও বেড়ে ১,৭০৯ পাউন্ড করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১,৬০৫ পাউন্ড।
সেটেলমেন্ট ভিসার ফি ৮ এপ্রিল থেকে প্রথমবারের মতো ২,০০০ পাউন্ড ছাড়িয়ে ২,০৬৪ পাউন্ডে পৌঁছাবে। আত্মীয়ের তত্ত্বাবধানে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ফি ২২২ পাউন্ড বাড়িয়ে ৩,৬৩৫ পাউন্ড করা হয়েছে। শরণার্থী নির্ভরশীল আত্মীয়দের জন্য ফি বেড়ে হয়েছে ৪৫২ পাউন্ড।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ভিসা খরচ বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে তিন বছর মেয়াদি দক্ষ কর্মী ভিসার ফি ৫০ পাউন্ড বাড়িয়ে ৮১৯ পাউন্ড করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি কাজের ভিসাতেও একই ধরনের বৃদ্ধি থাকবে।
এছাড়া সাধারণ স্টুডেন্ট ভিসার ফি ৫৫৮ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে এবং গ্র্যাজুয়েট রুট ভিসার ফি বেড়ে ৯৩৭ পাউন্ড হবে।
নতুন এই পরিবর্তনগুলো মূল আবেদনকারী ছাড়াও তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের ওপরও প্রভাব ফেলবে।