ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে যুক্তরাজ্যে অচিরেই ওষুধের সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যথানাশক ও ক্যানসারের ওষুধসহ বিভিন্ন জরুরি ওষুধের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ওষুধের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংঘাতের কারণে তেল, গ্যাস, সার ও হিলিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব স্বাস্থ্য খাতেও পড়তে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ ভারত থেকেও ওষুধ সংগ্রহ কঠিন হয়ে উঠছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় ওষুধ পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প পথ ব্যবহার করছে কিংবা সমুদ্রপথে পণ্য পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে, এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জটিলতার কারণে সমুদ্রপথেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণত ওষুধ পরিবহনের প্রধান মাধ্যম।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনো বড় ধরনের সংকট তৈরি না হলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সাধারণত সরবরাহকারীরা ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মজুত রাখেন। তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে দ্রুতই ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় যেমন প্যারাসিটামলসহ বিভিন্ন ওষুধের সংকট তৈরি হয়েছিল, তেমন পরিস্থিতি আবারও দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের প্রায় অর্ধেক ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হয়, আর উল্লেখযোগ্য অংশ আসে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে। বিশ্বে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের বড় একটি অংশ ভারতেই উৎপাদিত হয়।
এদিকে যুদ্ধের কারণে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে গেছে। যদিও প্রস্তুতকারকেরা আপাতত অতিরিক্ত ব্যয় বহন করছে, তবে ভবিষ্যতে কিছু ওষুধের দাম বাড়তে পারে—বিশেষ করে জিপি সেবা ও ফার্মেসিতে সরবরাহের ক্ষেত্রে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও ইতোমধ্যে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ওষুধের দাম ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ফ্লাইট কমে যাওয়ায় ওষুধ পরিবহনেও বড় প্রভাব পড়েছে।
দ্রুত সরবরাহ প্রয়োজন এমন ওষুধ—যেমন ক্যানসার চিকিৎসা, সংক্রামক রোগের ওষুধ ও জিন থেরাপি—সাধারণত আকাশপথে পরিবহন করা হয়। তবে বিকল্প হিসেবে সমুদ্রপথ ব্যবহার করলে সময় বেশি লাগে এবং খরচও বাড়ে।
এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মিথানল ও ইথিলিনসহ পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের খরচ বেড়েছে, যা ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালের ব্যয় বাড়াচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে ওষুধ শিল্পে চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত রোগী বা সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে।