লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সুনামগঞ্জের অন্তত ১০ জন। মূলত দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থাকার কারণে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটই তাদের মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে জানা গেছে।
বেঁচে ফেরা ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানা যায়, নৌযানটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং টানা প্রায় ছয় দিন সমুদ্রে ভাসতে থাকে। এ সময় যাত্রীদের কাছে থাকা খাবার ও পানির মজুত শেষ হয়ে গেলে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মৃত্যুবরণ করেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। সেখানে থাকা এক বাংলাদেশি যুবক জানান, মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। গুরুতর অসুস্থ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের লাশ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরিবার, প্রতিবেশী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
স্বজনদের দাবি, উন্নত জীবনের আশায় দালালের মাধ্যমে প্রত্যেকে প্রায় ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রিসে যাওয়ার চুক্তি করেছিলেন। কয়েক ধাপে তাদের মধ্যপ্রাচ্য হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে রাবারের নৌকায় করে সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু হয়।
তবে প্রতিশ্রুত বড় জাহাজের পরিবর্তে ছোট নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। সমুদ্রে কয়েকদিন ভেসে থাকার পর খাদ্য ও পানির অভাবে একে একে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধভাবে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায়ই এমন মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দেয়। এই ঘটনায় আবারও সেই ঝুঁকির ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।