যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে টানা ৩০ দিন ধরে ইন্টারনেট থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে ইরান। চলমান এই ব্ল্যাকআউট দেশটির নাগরিকদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় ৬৯৬ ঘণ্টা ধরে দেশটির মানুষ কার্যত ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত, যা নজিরবিহীন সেন্সরশিপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকেই ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধকালীন তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্নতার ফলে নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং পারস্পরিক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, ইন্টারনেট না থাকায় তারা যুদ্ধের সঠিক খবর জানতে পারছেন না কিংবা বিদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
অন্যদিকে, সরকারপন্থি কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা সীমিত আকারে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারলেও সাধারণ মানুষের জন্য তা প্রায় অপ্রাপ্য হয়ে উঠেছে। এতে করে দেশে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক বা কালোবাজারি ইন্টারনেট ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে।
বিকল্প হিসেবে কিছু মানুষ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। তবে এটি যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি আইনগত ঝুঁকিও রয়েছে। অবৈধভাবে এমন ডিভাইস ব্যবহার করলে কারাদণ্ডের বিধান থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী এ ধরনের সরঞ্জাম জব্দে অভিযান চালাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং মানবাধিকার ও তথ্যপ্রবাহের ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলছে।