সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের পুরাতন টিউবওয়েলগুলোতে পানি উঠছে না, কারণ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩২–৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে। বছরের তুলনায় এবারের সমস্যা আরও গুরুতর। সামর্থ্যবানরা ডিপ টিউবওয়েল বসালেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
পুরাতন টিউবওয়েল অচল হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা দূর-দূরান্ত থেকে পানি আনতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশুদের গোসল করানোও কঠিন হয়ে পড়েছে, এমনকি পাশের পুকুরের পচা পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। রাজানগর, জগদল, রফিনগর, চরনারচর, উজানধলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত তালুকদার বলেন, পানির অভাবে পানিবাহিত রোগের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও আমাশয়ের রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে।
পানি সংকটের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কম বৃষ্টিপাত, নদী ও পুকুরের শুকিয়ে যাওয়া, পাম্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন এবং ভৌগোলিক পরিবর্তন। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল খান জানান, শুষ্ক মৌসুমে বছরের ২–৩ মাস অনেক এলাকায় পানি ওঠে না। বর্তমানে সাধারণ টিউবওয়েলের পরিবর্তে সাবমার্সিবল বা হাই-বিট টিউবওয়েল বসানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে নতুন টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য কোনো চলমান বরাদ্দ নেই। জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মৃদুল কান্তি সরকার জানিয়েছেন, নতুন সরকারের কাছে তারা আশাবাদী—যদি নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হয়। বর্তমানে বিদ্যমান সংকট নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে।