যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও দেশাত্মবোধের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে। শনিবার পূর্ব লন্ডনের একটি হলে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফর।
শুরুতেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর পরিচালিত অপারেশন সার্চলাইট-এ সংঘটিত গণহত্যার শিকারদের স্মরণ করা হয়। বক্তারা নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানের সূচনায় সমবেত কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকী সুপ্রভার পরিচালনায়। পরে সভাপতি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের পেছনে অবদান রাখা নেতাদের স্মরণ করেন।
সহসভাপতি নিলুফা ইয়াসমীন হাসান তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অবদান এবং পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের বিষয় তুলে ধরেন। বিশেষ করে ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন প্রখ্যাত লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স-এর অধ্যাপক ড. শাহাদুজ্জামান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই ইতিহাস রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এ সময় ২৫ মার্চ উপলক্ষে নির্মিত একটি প্রামাণ্য ভিডিও প্রদর্শন করা হয়, যেখানে ১৯৭১ সালের গণহত্যার নির্মম চিত্র তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান ও আবু মুসা হাসান তাদের স্মৃতিচারণ করেন। এছাড়া ‘মুক্ত চিন্তা’ শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য ও নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
প্রথম পর্ব শেষে সিনিয়র সহ-সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ইকো সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রবাসে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং প্রধান বক্তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করা হয়। নৃত্যশিল্পী পুনন কুন্ডুর পরিবেশনা বিশেষভাবে দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী সৈয়দ জুবাইয়ের ও তারেক সৈয়দ। তারা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাবেক শিক্ষার্থী।
শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।