মস্কো ও পশ্চিমা বিশ্বের চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে রাশিয়া। সোমবার (৩০ মার্চ) এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে যুক্তরাজ্য অভিযোগটি সরাসরি নাকচ করে একে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে দাবি করেছে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) এক বিবৃতিতে জানায়, সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক গোয়েন্দা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যা দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি। সংস্থাটির দাবি, তিনি রাশিয়ার অর্থনীতি সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ওই কূটনীতিককে দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ব্রিটিশ কূটনীতিকদের হয়রানি করছে এবং ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা স্পষ্ট করে জানায়, কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি বা ভয়ভীতি যুক্তরাজ্য মেনে নেবে না।
২০২২ সালের রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও ন্যাটো মিত্রদের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই টানাপোড়েনের জেরে উভয় দেশের মধ্যে একাধিকবার কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে।
চলতি বছর জানুয়ারিতেও রাশিয়া এক ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে, যার জবাবে যুক্তরাজ্য একজন রুশ কূটনীতিকের স্বীকৃতি বাতিল করে। এর আগে গত বছর মার্চেও একই ধরনের অভিযোগে দুই ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল মস্কো।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও উত্তেজনা বাড়াবে এবং চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।