সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষায় সাত বিষয়ে ফেল করায় মূল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না পেয়ে এক শিক্ষার্থীর বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একদিন পার হলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষকের কক্ষে তালা দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। তবে পরিস্থিতির কারণে পরদিন অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. আরিফ ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। সে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজের ছেলে।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, এসএসসি পরীক্ষার আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি পরীক্ষায় আরিফ সাতটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চারটির বেশি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের মূল এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মঙ্গলবার সকালে আরিফ বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
একপর্যায়ে সে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাসিনা মমতাজের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ একটি কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। এ সময় সে বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় এক শিক্ষককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাসিনা মমতাজ বলেন, ‘নির্বাচনি পরীক্ষায় চারটির বেশি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। আরিফ সাত বিষয়ে ফেল করায় তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে এই আচরণ করে।’
অভিযোগের বিষয়ে আরিফ দাবি করে, ‘১৬ জন শিক্ষার্থী ছাড়া অন্যদের যদি পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদেরও সুযোগ দেওয়া উচিত। আমাদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি, তাই বাধ্য হয়েই তালা দিয়েছি।’
এদিকে শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল আজিজ বলেন, তিনি এ ঘটনার বিষয়ে আগে জানতেন না। তার দাবি, তার ছেলে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুনেছি অভিযুক্ত শিক্ষার্থী একজন বিএনপি নেতার ছেলে।’