যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শীঘ্রই সেখানে নতুন রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হওয়ার কথা থাকায়, কে হবেন সে বিষয়ে চলছে আলোচনা।
সূত্র জানাচ্ছে, যুক্তরাজ্যে নতুন রাষ্ট্রদূত হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন মুশফিক ফজল আনসারি, যিনি বর্তমানে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মুশফিক ফজল আনসারি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সহকারী প্রেস সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ওয়াশিংটন, ডিসি-তে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে আলোচিত হয়েছিলেন।
মুশফিক ফজল আনসারির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সহকারী রাষ্ট্রদূত ফয়সল আহমেদ-এর নামও এ পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত। তাদের মধ্য থেকে একজনকে যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
এর আগে শনিবার, লন্ডনে নিযুক্ত হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, “লন্ডনের হাইকমিশনার এতদিন বিভেদমূলক আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের কমিউনিটিকে বিভক্ত করেছেন এবং সবকিছুতে দলীয়করণের চেষ্টা করেছেন। তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
কমনওয়েলথ সফরের সময় হিথ্রো বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে হুমায়ূন কবিরের পাশে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবিদা ইসলামকে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য প্রদর্শনের অভিযোগ শুরু থেকেই ছিল। সম্প্রতি লন্ডনে বাংলাদেশ সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি বিতর্কও ঘটে, যা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ আছে, তিনি বৈঠক ডেকে হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অশোভন আচরণ করিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিলেন।