সিলেট থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করার ঘটনায় পাইলটের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় বিমানের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, বিজি-২০১ নম্বর ফ্লাইটটি সিলেট থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার পর পাকিস্তানের আকাশসীমায় লাহোরের কাছাকাছি পৌঁছালে এক যাত্রী হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় পাইলট ‘মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেন এবং ফ্লাইটটি ঢাকায় ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিমান চলাচলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মেডিক্যাল ইমার্জেন্সির ক্ষেত্রে নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় পাকিস্তানের আকাশসীমায় অবস্থানকালে লাহোর বা আশপাশের কোনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা যেত কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে। কেন সে সময় ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৩ সালে সিলেট–লন্ডন রুটের একটি ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যু হয়। সে সময় উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লেও ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ না করে সরাসরি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়েছিল। ওই ঘটনাটি নিয়েও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনার তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।