মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের জলবায়ু চুক্তিসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ স্থগিত করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সই করা এই আদেশের ফলে জলবায়ু, শ্রম, অভিবাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করা জাতিসংঘের বহু সংস্থা, কমিশন ও পরামর্শক প্যানেল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯২ সালের জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) থেকেও প্রত্যাহার নিল। এর ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থার বাইরে থাকা একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান “অপ্রয়োজনীয়, অপচয়কারী এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত।” তার অভিযোগ, অনেক সংস্থা এমন স্বার্থগোষ্ঠীর দখলে রয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
রুবিও বলেন, “আমেরিকান জনগণের রক্ত, ঘাম আর অর্থ এমন প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করা আর গ্রহণযোগ্য নয়, যেগুলো থেকে আমাদের তেমন কিছুই পাওয়া যায় না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বিদেশি স্বার্থে করদাতাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের দিন শেষ।”
এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) থেকেও যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে, যে সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও এই সংস্থার অর্থায়ন বন্ধ করেছিলেন।
যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা স্থগিত করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে—
কার্বন ফ্রি এনার্জি কমপ্যাক্ট, ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল ট্রপিক্যাল টিম্বার অর্গানাইজেশন, পার্টনারশিপ ফর আটলান্টিক কো-অপারেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল লিড অ্যান্ড জিঙ্ক স্টাডি গ্রুপ।
এর আগেই ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ ও ইউনেস্কো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন স্থগিত করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করবে।