সৈয়দ আব্দুল কাদির, লন্ডন :
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বরোতে অবস্থিত ওসমানী প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেমি (Remi) শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এমবিই (MBE) এওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ২০২৬ সালের যুক্তরাজ্যের নিউ ইয়ার্স অনার্স তালিকায় শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য এই সম্মাননা লাভ করেন।
এমবিই পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় রেমি বলেন, “এই কমিউনিটিকে সেবা দিতে পেরে আমি গভীরভাবে গর্বিত। সামনে যে দায়িত্ব রয়েছে, সেদিকেই আমি পুরোপুরি মনোযোগী। ওসমানী স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন নিজেকে মূল্যবান, নিরাপদ ও অনুপ্রাণিত মনে করে এবং তাদের সর্বোচ্চ অর্জনের জন্য ‘রিচ ফর দ্য স্টারস’—এই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাব।”
প্রায় ২০ বছর আগে ওসমানী প্রাইমারি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রেমির নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি সর্বাঙ্গীন সাফল্য অর্জন করেছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও সমাপনী পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল অর্জনে স্কুলটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তিনি নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—ব্রেকফাস্ট ক্লাব, আফটার স্কুল ক্লাব, হান্ড্রেড পারসেন্ট অ্যাটেনডেন্স এওয়ার্ড, হেড টিচার এওয়ার্ড, ট্যালেন্টেড স্টুডেন্টস এওয়ার্ড এবং এসব এওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান ভ্রমণের সুযোগ। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করেছে।
এছাড়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও অংশগ্রহণ বাড়াতে নিয়মিত গেট-টুগেদার ও নানা সামাজিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—উইন্টার ফেয়ার ফেস্টিভ্যাল, সামার ফেয়ার, বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ওয়ার্কশপ, কফি মর্নিং, সেমিনার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
বিদ্যালয়ের এই সাফল্যের জন্য প্রধান শিক্ষক রেমি শিক্ষার্থী, শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবকগণ, প্রশাসনিক টিম, স্কুল গভর্নিং বডির সদস্যসহ বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
স্কুলের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের স্কুল হিসেবে যে অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, তা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের শেখা ও কল্যাণের জন্য পারস্পরিক আস্থা, অংশীদারিত্ব এবং সম্মিলিত অঙ্গীকারের ফল।”