ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। দেশজুড়ে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সহিংসতা দমনে কঠোর অভিযান শুরুর পর এই প্রথম সরকারিভাবে এত বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির কথা স্বীকার করা হলো।
রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ওই কর্মকর্তা বলেন, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—উভয়ই রয়েছেন। তবে কতজন সাধারণ মানুষ এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান তিনি জানাননি। তাঁর দাবি, এই সহিংসতার জন্য মূলত ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী।
দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এ বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, গত তিন দশকের মধ্যে এটি ইরানের শাসকদের জন্য অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকেই ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব এই আন্দোলন মোকাবিলায় দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। একদিকে তারা অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে হওয়া প্রতিবাদকে ‘বৈধ’ বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে বাস্তবে কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন করছে।
ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে দাবি করেছে, তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ এই আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দিয়েছে।
এর আগে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছিল, বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কয়েক দিন ধরে তেহরান সরকারের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় কড়াকড়ির কারণে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত এক সপ্তাহে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে রাতের বেলায় সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে গোলাগুলি, যানবাহন ও ভবনে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক সহিংসতার চিত্র দেখা গেছে।