বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রদান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের মোট ৭৫টি দেশের নাগরিক এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফক্স নিউজ জানায়, শুরুতে কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে তালিকায় বাংলাদেশের নামও যুক্ত করা হয়। সিদ্ধান্তটি আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
ফক্স নিউজের প্রাপ্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ভিসা যাচাই ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা দেওয়া হবে না। এ সময় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিদ্যমান আইনের আওতায় ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও সোমালিয়া, রাশিয়া, আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোস, বেলারুশ, ভুটান, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, কিউবা, মিসর, ইরান, ইরাকসহ আরও বহু দেশের নাম রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে এবং পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সোমালিয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর দেশটি আলোচনায় আসে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের মতে, এসব ঘটনায় জড়িতদের বড় একটি অংশ সোমালি নাগরিক বা সোমালি–আমেরিকান।
এদিকে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্বের বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাসে পাঠানো এক বার্তায় তথাকথিত ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের আওতায় কঠোর যাচাই–বাছাইয়ের নির্দেশ দেয় পররাষ্ট্র দপ্তর। এই বিধান অনুযায়ী, যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাদের ভিসা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নতুন নির্দেশনায় আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাসহ নানা বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অতীতে সরকারি সহায়তা গ্রহণ বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ইতিহাস থাকলেও ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি ভাতা বা জনসাধারণের সুযোগ–সুবিধা অপব্যবহার করতে পারে—এমন ব্যক্তিদের অযোগ্য ঘোষণার আইনগত ক্ষমতা বহুদিন ধরেই সরকারের রয়েছে। কল্যাণমূলক কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।