সারা বছর প্রতিদিন রোজা রাখা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। তবে কেউ যদি প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখেন, তাহলে তিনি সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব লাভ করেন। এই তিন দিনে চাঁদ উজ্জ্বলভাবে দেখা যায় বলে দিনগুলোকে আইয়ামে বীজ বা সাদা দিন বলা হয়। প্রতি মাসে এই তিন দিন রোজা রাখা সুন্নত।
শবে বরাত একটি মর্যাদাপূর্ণ রাত, যা হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে পালিত হয়। ‘শবে বরাত’ ফারসি শব্দ—‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি, শান্তি ও সৌভাগ্য। আরবিতে একে বলা হয় লাইলাতুল বরাত।
ইসলামি বর্ষপঞ্জিতে রাত আগে গণনা করা হয়। সে হিসেবে শাবান মাসের ১৫ তারিখে অনেকেই রোজা রাখেন। এ বিষয়ে একটি বিষয় জানা জরুরি—নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতি চান্দ্র মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও তা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন (তিরমিজি: ৭৬০, ৭৬৩)। এই তিন দিন মাসের শুরু, মাঝামাঝি বা শেষ—যেকোনো সময় হতে পারে। তবে কিছু হাদিসে বিশেষভাবে মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে, অর্থাৎ আইয়ামে বীজে রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে (তিরমিজি: ৭৬১)।
সে হিসেবে শাবান মাসের আইয়ামে বীজে রোজা রাখা সুন্নত। ১৫ তারিখ যেহেতু এই তিন দিনের অন্তর্ভুক্ত, তাই ওই দিন রোজা রাখাও সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে। হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন, নবীজি (সা.) যে তিন দিনের কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলোতেই রোজা রাখা সর্বোত্তম (ফাতহুল বারী)।
একটি বর্ণনায় আলাদাভাবে ১৫ শাবানে রোজা রাখার কথা পাওয়া যায় (ইবনে মাজাহ: ১৩৮৪)। তবে হাদিসটি দুর্বল হওয়ায় মুহাক্কিক আলেমদের মতে, কেবল এই বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে ১৫ শাবানের রোজাকে পৃথকভাবে সুন্নত বা মুস্তাহাব বলা সঠিক নয়। তবে যেহেতু দিনটি আইয়ামে বীজের অন্তর্ভুক্ত, তাই ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ মিলিয়ে রোজা রাখা নিঃসন্দেহে সুন্নত।
সারকথা, শাবান মাসের ১৫ তারিখে রোজা রাখা জায়েজ। চাইলে ১৩ ও ১৪ তারিখের সঙ্গে মিলিয়ে তিন দিন রোজা রাখা যেতে পারে, আবার কেউ কেবল ১৫ তারিখেও রোজা রাখতে পারেন। তবে তিন দিন একসঙ্গে রাখাই উত্তম।
এ প্রসঙ্গে মুফতি তাকি উসমানী (দা.বা.) বলেন, শবে বরাতের পরদিন রোজা রাখার বিষয়ে যে হাদিসটি পাওয়া যায়, তা সনদের দিক থেকে দুর্বল। তাই একে ভিত্তি করে আলাদাভাবে ওই দিনের রোজাকে সুন্নত বলা অনেক আলেমের দৃষ্টিতে সঠিক নয়। তবে শাবান মাসে সাধারণভাবে অধিক রোজা রাখার ব্যাপারে বহু সহিহ হাদিস রয়েছে। ১ শাবান থেকে ২৭ শাবান পর্যন্ত রোজা রাখা ফজিলতপূর্ণ। তবে রমজানের প্রস্তুতির স্বার্থে নবীজি (সা.) ২৮ ও ২৯ শাবানে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।