সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ডিবির হাওরের একাংশে অবস্থিত লাল শাপলা বিল কচুরিপানার আগ্রাসনে তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ সংগঠকরা। তারা বিলটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় দ্রুত কচুরিপানার বিস্তার রোধ ও সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’–এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল শাপলা বিল ও জৈন্তিয়ার রাজা বিজয় সিংহের সমাধিসৌধ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন দলে আরও ছিলেন জার্মানপ্রবাসী লেখক ও ঐতিহ্য গবেষক সাকি চৌধুরী, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, ধরা সিলেটের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী, সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট গোলাম সোবাহান চৌধুরী।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জৈন্তিয়া ফটোগ্রাফি সোসাইটির নেতারা প্রতিনিধি দলকে ‘তরুছায়া প্রকল্প’ সম্পর্কে অবহিত করেন। এ প্রকল্পের আওতায় শাপলা বিলের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় তিন হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে।
প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিদর্শন শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিনিধিদল জানায়, কচুরিপানার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারে অচিরেই শাপলা বিলের সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা ডিবির হাওরের সড়কপাশে রোপণ করা কিছু গাছ স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মত দেন। পাশাপাশি হিজল, করচ, তাল, সুপারি ও অন্যান্য দেশীয় বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় রাজা বিজয় সিংহের দুই শতাব্দী প্রাচীন সমাধিসৌধের বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা এবং দ্রুত সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। শাপলা বিলকে কেন্দ্র করে প্রাকৃতিক পর্যটনের পাশাপাশি ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন শিল্প বিকাশের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন পরিবেশ সংগঠকরা।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের দিকে স্থানীয়দের নজরে আসে ডিবির হাওরের লাল শাপলা। ২০১৬ সাল থেকে এটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়। প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় থাকলেও এখনো সেখানে পর্যাপ্ত পর্যটন সুবিধা গড়ে ওঠেনি।
পরিদর্শক দল শাপলা বিল ও এর আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপরও জোর দেন।