প্রবাসীদের মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে সিলেট–ম্যানচেস্টার রুটের সরাসরি ফ্লাইট স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন এ রুট ব্যবহারকারী প্রবাসী যাত্রী ও সিলেটের স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনে নেমেছেন।
প্রবাসীদের অভিযোগ, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে লাভজনক এই রুটকে কৃত্রিমভাবে লোকসানি দেখানো হচ্ছে। ফ্লাইট চালু না রাখলে আন্দোলনের পাশাপাশি রেমিট্যান্স বন্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। যার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিলেটকে ‘দ্বিতীয় লন্ডন’ বলা হয়।
প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদান, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে ব্রিটেনের সঙ্গে সিলেটের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর। এই প্রেক্ষাপটে ২০২০ সাল থেকে সিলেট–ম্যানচেস্টার রুটে সরাসরি তিনটি ফ্লাইট চালু করা হলেও পরবর্তীতে একটি ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। নির্বিঘ্ন যাত্রার সুবিধায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই রুটের ফ্লাইট আগামী ১ মার্চ থেকে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক বছরে একাধিকবার ফ্লাইট বন্ধের চিন্তা করা হলেও প্রবাসীদের চাপের মুখে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। তবে এবার আর্থিক লোকসানের কারণ দেখিয়ে স্থায়ীভাবে এই রুট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের দাবি, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবেই লাভজনক রুটটিকে লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তারা জানান, ফ্লাইট চালু না রাখলে রেমিট্যান্স বন্ধের পাশাপাশি প্রয়োজনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই রুটে বিমান পরিচালনার বিষয়টিও ভাবছেন তারা। ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে সিলেটের বিমান অফিস ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। এসব কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন সিলেটবাসীকে পিছিয়ে রাখতেই বিমান কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিলেটবাসীর কথা চিন্তা করে ফ্লাইট চালু রাখার দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিলেট–ম্যানচেস্টার রুটে প্রতি মাসে সাড়ে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত এই রুটে ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিমান বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার বুশরা ইসলাম। তবে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, পুরোপুরি ফ্লাইট বন্ধ না করে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। উল্লেখ্য, চলতি ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে সিলেট–ম্যানচেস্টার রুটে দুটি এবং লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে সরাসরি চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।