যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) House of Commons-এর একটি কমিটি রুমে Commonwealth Parliamentary Association (সিপিএ) আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের অঙ্গীকার এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে বাংলাদেশ এক রূপান্তরমূলক যুগে প্রবেশের পথে রয়েছে।
‘বাংলাদেশ নির্বাচন: পরবর্তী ধাপ কী?’ শীর্ষক আলোচনায় যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সঠিক পথে ফেরানোর একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার আইনের শাসন পুনরুদ্ধার ও মানবাধিকার সুরক্ষাকে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ এজেন্ডার মূলভিত্তি হিসেবে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
হাইকমিশনার জানান, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘জুলাই চার্টার’-এর নীতির সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে, যাতে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনগুলো জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত অর্থনৈতিক ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সামাজিক সাম্য ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে ভিত্তি করে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির ভিশন তুলে ধরা হয়। এই লক্ষ্য অর্জনে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ স্কিমকে একটি কেন্দ্রীয় উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধির সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া।
ব্রিটিশ এমপি আপসানা বেগম-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত প্যানেলে অংশ নেন বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন। তিনি নতুন ম্যান্ডেটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে যুক্তরাজ্যের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।
ব্যারোনেস উইন্টারটন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল বাজার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনার জটিল প্রক্রিয়ায় ব্রিটিশ সরকার নতুন প্রশাসনকে সক্রিয় সহযোগিতা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্যানেল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন, এমপি রূপা হক এবং Chatham House ও Institute of Development Studies-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।
আলোচনায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ তার ঘোষিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।