সুনামগঞ্জের ছাতকে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতা সাহেল ও তার সহযোগী সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন গহরপুর গ্রামবাসী। একই সাথে ক্রমাগত হামলার ঘটনায় আতংক বিরাজ করছে গ্রামজুড়ে। সন্ত্রাসী বাহিনীর কবল থেকে জান মালের নিরাপত্তায় আইনী সহযোগিতা দাবী করছেন ভূক্তভোগীরা।
গতকাল (২৭ ফেব্রুয়ারী) শুক্রবার সিলেট প্রেসক্লাবে এক লিখিত বক্তব্যে সন্ত্রাসী বাহিনীর বর্বরতার অভিযোগ করেন উপজেলার গহরপুর গ্রামের বাসিন্দা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা তাজ উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের আহবায়ক তাজ উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সায়েল পেশীশক্তিধারী উগ্র প্রকৃতির লোক এবং আওয়ামীলীগের একজন মোটা দাগের সন্ত্রাসী। যা স্থানীয় সকলেই জানা।
তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে পুলিশ এসল্টসহ অনেক অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়ছে। সে প্রকাশ্যভাবে বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ব্যর্থ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে হম্বিদম্বি দেখিয়েছিল। আমাদের গহরপুর গ্রামে মাত্র কয়েকজন বিএনপি কর্মী আছেন। আমিও যুক্তরাজ্য বিএনপির সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের আহবায়ক বটে।
আমি শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম এবং বাংলাদেশে গুম খুনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করাসহ অনেক প্রতিবাদ করি। জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর আমি দেশে আসলে সাহেল চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে। তার এক নিরাপরাধ চাচাকে হত্যা করে আমার বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তৎকালীন সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে মিথ্যা মামলা দায়েরে ব্যর্থ হয় সে।
মামলার তদন্তে তার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গ্রেফতার করতে চাইলে সে ফেসবুক লাইভে এসে তার সহযোগিদের কাছে নিজেকে রক্ষা করতে আহবান করে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা করে। অবশেষে একাধিক পুলিশ অফিসারকে আহত করে সাহেলকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছাতক থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে শতাধিক আসামী করে অ্যাসল্ট মামলা করে। এরপর থেকে সাহেল বাহিনী আমি এবং বিএনপির কয়েকজন কর্মীর উপর একাধিক হামলা করে। বাড়িঘর লুট করে, মহিলা এবং শিশু নির্বিশেষে মারপিট করে।
গত অক্টোবর মাসে আমার বাড়িতে হামলা করে আমার বাড়ি, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি লুট করে প্রায় নগদ টাকা পাউন্ড সহ ৪০ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত সপ্তাহে লন্ডন প্রবাসী সুফিয়া বেগম আমাদের গ্রামে রমজান উপলক্ষে দান খয়রাত করতে আসলে সুফিয়া বেগমকে জিম্মি করে তার কাছ থেকে নগদ টাকাসহ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি আমি গ্রামের বাড়িতে গেলে আমাকে অজ্ঞাতনামা নাম্বার থেকে এক ব্যাক্তি ফোন করে হত্যার হুমকি প্রদান করে এবং আমাকে চতুর্থ দিক থেকে ঘিরে রেখেছে বলে জানায় যাতে আমি পালিয়ে না যেতে পারি।
প্রায় এক ঘন্টার মধ্যেই প্রার শতাধিক সন্ত্রাসী আমার বাড়িতে আক্রমন চালায়, এবং আমাকে ঘর থেকে বের হতে উচ্চস্বরে ডাকাডাকি করে। আমার বাড়ির কিছু লোকজন কেয়ারটেকার তাদের বাধাপ্রদান করলে তাদেরকে মারধর করে মারাত্মকভাবে আহত করে। এ ঘটনায়ও মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ২৬সে ফেব্রুয়ারি আমার চাচা জয়নাল আবেদীন এক ইফতারির আয়োজন করলে আমাদের পরিবার ও মেহমানদের উপর আবারও হামলা করে। এতে অনেকেই মারাত্নক জখমি হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তারা পুলিশকে নিয়ে বিদ্রুপ করে। পুলিশের চারপাশে নৃত্য করে, হিজড়া হিজড়া বলে পুলিশকেও গালি দেয়। আজ আবার আমার আমার বাড়ি ও জাহাঙ্গিরের বাড়িতে আক্রমন করে বাড়িঘর ভাংচুর করে এবং গবাদি সহ ঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
তাজ উদ্দিন জানান, এরকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে পুরো গ্রামবাসী এখন ভীত সন্ত্রস্থ। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বারা যে কোনো সময় আমাদের যে কারো জানমালের ক্ষতি হতে পারে। আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তিনি।