বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মাত্র দুই বছর আগে ক্ষমতায় আসা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ আস্থাহীনতা, নীতিগত অস্পষ্টতা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের মুখে অবশেষে তিনি পদ ছাড়তে বাধ্য হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় জয়ের পর দেশবাসী স্থিতিশীলতার যে আশা করেছিল, তা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চরম চাপে পড়েছিল স্টারমার সরকার।
লেবার পার্টির সূত্রগুলো জানায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা দিতে পারেননি। স্থানীয় নির্বাচনে দলের বিপর্যয়কর ফলাফলের পর তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত দলীয় সংসদ সদস্যদের আস্থা হারিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, আগামী নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি আর দলের সেরা পছন্দ নন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে না পারাই ছিল তার পতনের মূল কারণ। বিশেষ করে নাইজেল ফারাজের রিফর্ম পার্টির দ্রুত উত্থান লেবার পার্টির জন্য বড় ধাক্কা ছিল। রিফর্ম পার্টি এখন ব্রিটেনের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বিদায় নিলেও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, যেমন ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে তার কিছু সাফল্য ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমালোচনা তার সরকারের ভাবমূর্তিতে নতুন চাপ তৈরি করেছিল। স্টারমারের বিদায়ের পর লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন অ্যান্ডি বার্নহাম, যাকে অনেকেই “রিফর্ম স্লেয়ার” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
সূত্র: রয়টার্স







