যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি দেখা গেছে। নতুন এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে লন্ডনে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু ৪০% কমেছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকরা জানিয়েছেন, শহরের বায়ুমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ার কারণেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তবে এই উন্নতির পরেও দূষণ এখনও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
ইউলেজ নীতি ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান
গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে লন্ডনের বাতাসে ক্ষতিকারক নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ৪১ শতাংশ এবং সূক্ষ্ম কণাদূষণ ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আগে যেখানে ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে অকালমৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার ৪০০ থেকে ৮ হাজারের মধ্যে, ২০২৪ সালে তা কমে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ১০০-এর মধ্যে নেমে এসেছে। ফলে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে লন্ডনে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু ৪০% কমেছে।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এই সাফল্যের পেছনে তার বিতর্কিত ও আলোচিত ‘আল্ট্রা-লো এমিশন জোন’ বা ইউলেজ (ULEZ) নীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করেছেন। তার মতে, পুরো লন্ডনে এই নীতি সম্প্রসারণের সাহসী পদক্ষেপের কারণেই মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। পরিবেশগত এই নিয়মের আওতায়, নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি দূষণকারী যানবাহনগুলোকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হয়। বর্তমানে লন্ডনের প্রায় ৯৭ শতাংশ যানবাহনই এই পরিবেশগত মান পূরণ করে রাস্তায় চলাচল করছে।
ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞদের মতামত
যদিও এই নীতি বাস্তবায়নের ফলে লন্ডনে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু ৪০% কমেছে, তবুও আউটার লন্ডনের বেক্সলি, হ্যাভারিং ও সাটনের মতো এলাকাগুলোতে এখনও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। গবেষক ড. ডেভিড ডাজনাক জানান, বায়ুদূষণের সাথে হৃদরোগ, ডিমেনশিয়া এবং ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া ‘মামস ফর লাংস’ সংগঠনের মতে, ২০২৪ সালেও এক লাখের বেশি শিশু শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাই এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে নাগরিকদের পুরোপুরি রক্ষা করতে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান









