ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক ফের জোরদার করতে চাইছে ব্রিটেন। কারণ ইইউভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এবার যুক্তরাজ্যে কমতে পারে টিউশন ফি। ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে তাদের থেকে দেশীয়দের সমপরিমাণ ফি নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
বিশাল আর্থিক সাশ্রয় ও নীতিগত আলোচনা
প্রকৃতপক্ষে এই প্রস্তাব পাস হলে একজন ইউরোপীয় শিক্ষার্থী বছরে প্রায় ২৮ হাজার পাউন্ড সাশ্রয় করতে পারবেন। সুতরাং এখন আন্তর্জাতিক ফি’র বদলে তাদের মাত্র ৯ হাজার ৫৩৫ পাউন্ড দিতে হতে পারে। বিশেষ করে ফ্রান্সের জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে এই বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছিল। একইসাথে ইউরোপীয় কমিশন শুরু থেকেই এই সুবিধা চালুর দাবি জানিয়ে আসছিল। এমনকি এই বিষয়ে আগামী ২২ জুলাই বেলজিয়ামে একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। পরিশেষে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সেই সম্মেলনটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় খাতের আর্থিক ক্ষতি ও বিতর্ক
স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেক বৃদ্ধি পাবে। বিশেষত এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে কমতে পারে টিউশন ফি, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ। তাছাড়া এই নিয়মের কারণে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বছরে প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে। এর পাশাপাশি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, এতে এশিয়ান বা চীনা শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তির আসন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন ইউরোপের সাথে সম্পর্ক ভালো হবে, অন্যদিকে শিক্ষাঋণ আদায় নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হবে। সর্বোপরি এই ফি কমানোর প্রস্তাবটি যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ









