ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থাকে ঘিরে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ এমপিরা। তারা বর্তমান ঋণ কাঠামোকে শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের “অন্যায্য ফাঁদ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উচ্চ সুদের চাপে অনেক গ্র্যাজুয়েট জীবদ্দশায়ও ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ নিয়ে ইতোমধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত এক দশকে ‘প্ল্যান টু’ স্কিমের আওতায় ঋণ নেওয়া প্রায় ৫৮ লাখ মানুষ এখন ঋণের ভারে ন্যুব্জ বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।
লেবার পার্টির এমপি Jas Athwal পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বিতর্কের সূচনা করে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা অত্যন্ত পশ্চাদমুখী এবং এটি গ্র্যাজুয়েটদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
চ্যান্সেলর Rachel Reeves ঋণ পরিশোধের বেতনসীমা তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর ক্ষোভ আরও বাড়ে। এমপি Bell Ribeiro-Addy এই ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে একে ‘লোন শার্ক’-এর ঋণের সঙ্গে তুলনা করেন।
কনজিউমার বিশেষজ্ঞ Martin Lewis দ্রুত নীতিগত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী Bridget Phillipson স্বীকার করেছেন যে বর্তমান ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে এবং সরকার সম্ভাব্য সমাধান খুঁজছে।
এমপিরা পরিস্থিতিকে Hotel California গানের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, শিক্ষার্থীরা একবার ঋণের ফাঁদে পড়লে সহজে সেখান থেকে বের হতে পারছেন না। ক্রমবর্ধমান সুদের চাপে অনেক গ্র্যাজুয়েট আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন; কেউ কেউ দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং আবাসন সংকটেও পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার ও পরিশোধ কাঠামোয় সংস্কার না আনলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।