ইস্ট লন্ডন মসজিদের সেবার পরিধি সম্প্রসারণ এবং আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনায় তরুণ সমাজকে মসজিদমুখী করা, নারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, নতুন মুসলিমদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা, প্রবীণদের সেবা এবং রিফিউজি সার্ভিসে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ এ পরিকল্পনার কথা জানান এবং কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
মসজিদের সিইও জুনায়েদ আহমদের সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ, সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম হীরা এবং প্রধান ইমাম ও খতীব শায়খ আব্দুল কাইয়ুম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি মোহাম্মদ আব্দুল মালিক। শুরুতে মিশর থেকে আগত তারাবিহর ইমাম হাফিজ মুয়তাজ আল ঘানাম পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন।
ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ বলেন, আপাতত নতুন কোনো বড় প্রকল্প শুরু না করে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ এবং সেবার মান উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও মসজিদকে ঋণমুক্ত করতে বিশেষ ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
-
বছরে ৫০০ পাউন্ড দান করে ‘খাদিম’ হওয়ার সুযোগ,
-
১,০০০ পাউন্ড দান করে আল-হামরা ডোনার ওয়ালে নাম সংরক্ষণ,
-
প্রতিদিন ১ পাউন্ড দানের লক্ষ্যে মাসিক ন্যূনতম ৩০ পাউন্ডের স্ট্যান্ডিং অর্ডার চালু।
তিনি আরও জানান, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার Channel S টিভিতে বিকেল ৩টা থেকে ফজর পর্যন্ত লাইভ ফান্ডরেইজিং অ্যাপিলে অংশ নেবে মসজিদ কর্তৃপক্ষ এবং এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান জানান, কমিউনিটির সহযোগিতায় গত বছর মসজিদের সর্বশেষ সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং মূল হল সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একসঙ্গে ১০ হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজানের প্রথম সপ্তাহেই ৭০ হাজারের বেশি মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেছেন এবং সারা বছরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের পদচারণায় মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে।
রমজান মাসে মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রতি বছরের মতো এবারও এক হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে কমিউনিটির দানে পরিচালিত। মাত্র ৩ পাউন্ড দানে একজন রোজাদারের ইফতার এবং ৩,০০০ পাউন্ড দানে একদিনে এক হাজার মানুষকে ইফতার করানোর সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা মসজিদের ট্রাস্টি, স্টাফ, কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তৃত পরামর্শের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে।