যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন-এ তীব্র আবাসন সংকটের কারণে শত শত পরিবারকে উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের প্রত্যন্ত এলাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। ঘর সংকট সামাল দিতে লন্ডনের বিভিন্ন কাউন্সিল প্রায় ২৭০ মাইল দূরের County Durham-এ পরিবারগুলোকে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানা গেছে।
হঠাৎ করে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে কাজ, শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। অনেক পরিবার অভিযোগ করেছেন, তাদের আসবাবপত্রহীন ও জরাজীর্ণ বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মার্গারেট নামের এক নারী জানান, তিন মাস আগে তাকে ও তার পরিবারকে হঠাৎ ট্যাক্সিতে করে কাউন্টি ডারহামে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে সন্তানদের স্কুলে ভর্তি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লেগেছে, যা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকে লন্ডনের বিভিন্ন কাউন্সিল কয়েকশ পরিবারকে এভাবে স্থানান্তর করেছে। ‘Relocate UK’ নামের একটি সংস্থা এই পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে কাউন্টি ডারহাম কাউন্সিল জানিয়েছে, অনেক পরিবারকে হিটার বা ন্যূনতম আসবাবপত্র ছাড়াই স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর বাড়িতে রাখা হয়েছে।
এই স্থানান্তরের ফলে অনেকেই সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় চ্যারিটি সংস্থা যেমন The Ark এবং Horden Together ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে রান্নার সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহায়তা করছে। বহু শিশু তাদের পুরোনো স্কুল ও বন্ধু হারিয়ে মানসিক চাপে ভুগছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সরকারের আবাসন মন্ত্রণালয় এ ধরনের পরিস্থিতিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, কাউন্সিলগুলোকে যেন এমন পদক্ষেপ এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে লন্ডনে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এ ধরনের স্থানান্তরের প্রবণতাও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন নীতি ও সাশ্রয়ী ঘর নির্মাণের উদ্যোগ জোরদার না হলে এ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।