আমির বিন গোলাম রব্বানি, দিরাই
সুনামগঞ্জ ২ দিরাই শাল্লা আসনে রাজনীতির মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ধানের শীষ এবং দাঁড়িপাল্লা। বিএনপি প্রার্থী মনোনয়নে নাটকীয়তা থাকলেও এডভোকেট তাহির রায়হান পাবেল চৌধুরীর বদলে প্রার্থী হিশেবে চূড়ান্ত করেছেন সাবেক এমপি জননেতা নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে। অপর দিকে জামাতে ইসলামি মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী এডভোকেট শিশির মনির। উভয়েই হাওরাঞ্চলের নির্বাচনি মাঠে তুমুল প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। জনপ্রিয়তা কিংবা যোগ্যতার প্রশ্নে উভয়েই হাওরবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যতায় উত্তীর্ণ। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন শহর থেকে গ্রাম। চলছে উঠান বৈঠক জনগনের সাথে দেখা সাক্ষাৎ, কথাবার্তা এবং ওঠা বসা। থেমে নেই উভয় প্রার্থীর সমর্থক এবং দলীয় নেতাকর্মীরা। অনলাইন অফলাইন সবখানেই চলছে পছন্দের প্রার্থীর জয়গান আর গুণগান।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভাটি অঞ্চলের মানুষের মনে তৈরি হয়েছে নতুন এক আমেজ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ছুটে যাবে ভোট কেন্দ্রে। যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হবে, নতুন সরকার গঠন হবে, জনগণের আশা প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে। উন্নয়ন হবে রাস্তাঘাট, শ্মশান, মন্দির, মসজিদ, মাদরাসা ইত্যাদি। এই আশা মনে নিয়েই ভাটি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চোখে মুখে খুশির হাসি।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তরুণ ভোটার যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে সচেতন ভোটার সংখ্যা। খুব সহজেই বলা যায়, অতীতের রাজনীতি এবং বর্তমান রাজনীতির মাঝে বিশাল এক পরিবর্তন ও নতুনত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার জনগণেই নির্ধারণ করবে কে হবে আগামি দিনের সুনামগঞ্জ ২ দিরাই শাল্লা আসনের এমপি। তবে দিরাই শাল্লায় একটি মিথ আছে এমন, দলের চেয়েও ব্যক্তির জনপ্রিয়তা অনেক সময় নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন নিয়ে আসে। এককথায় জনপ্রিয়তা বেশি যার সংসদে আসনও তাঁর। সেই বিবেচনায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী জননেতা নাছির চৌধুরী কিন্তু পিছিয়ে নেই মেধা ও যোগ্যতায় এডভোকেট শিশির মনির। সুতরাং নিশ্চিত বিজয় কার হবে? এই প্রশ্নটা দিরাই শাল্লার জনগনের কাছে শর্টকাট জবাব দেওয়া বেশ দুরূহ ব্যাপার। বর্তমানে জনপ্রিয়তা বিবেচনা করলেও উভয় প্রার্থীই এই উত্তরকে জটিল এবং কঠিন করে তুলেছে। জনপ্রিয়তা যেমন ধর্ম বর্ণ মানে না। ঠিক তেমনি যোগ্যতাও কোন জনপ্রিয়তা বুঝে না। এই দুই কারনেই যত দিন যাচ্ছে ততই জমে ওঠছে ভোটের লড়াই। বুঝা যাচ্ছে এই আসনে জয়ের মালা পড়াটা ভাগ্যের ব্যাপার। আগে থেকে বুঝে ওঠাটা এতটা সহজ নয়। নির্বাচন কেন্দ্রীক আনন্দমুখর এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হাওরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন পর অবলোকন করতে চলছেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে মানুষের ভোটাধিকার হনন করার পাশাপাশি নির্বাচনকে করে রেখেছিল জিম্মি এবং অনিরাপদ। দিনের ভোট রাতে আর জীবিত মানুষের ভোট মৃত মানুষকে দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা এবং গনতন্ত্রকে করেছিল কুক্ষিগত। জাতি এই বন্দিশালা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে। আশা করা যায়, এ বছরের নির্বাচন হবে সকল নির্বাচনের চেয়ে সুষ্ঠু সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন। মানুষের ভোট দেওয়ার পথে যেমন পেশি শক্তি থাকবে না তেমনি থাকবে না নিরাপদপত্তার সংশয় কিংবা জানমালের ক্ষয়ক্ষতির কোন শঙ্কা! একটি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে জাতি কাঙ্ক্ষিত আশার প্রতিফলন ঘটবে বলে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে।